ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প: নিশির ডাক
গ্রামের নাম নিশিনপুর। চারদিকে ঘন জঙ্গল, তার মাঝখান দিয়ে সরু মাটির রাস্তা। গ্রামের শেষ মাথায় একটা বিশাল বটগাছ, তার নিচেই নাকি অশরীরীদের আড্ডা।
শহরের ছেলে অর্ণব। সে ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করে না। কদিন আগে গ্রামের বাড়িতে এসে উঠেছে। গ্রামের লোকেরা ওকে বারণ করেছিল, "বাবু, রাত বারোটার পর ওই বটগাছের রাস্তায় যেও না। ওখানে 'নিশি' ডাকে।"
অর্ণব হাসল। সে ভাবল, এসব গাঁজাখুরি গল্প।
সেদিন ছিল অমাবস্যা। রাত তখন ১টা। অর্ণব তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে ফিরছিল। রাস্তা একদম নিঝুম। বটগাছের কাছে আসতেই সে অনুভব করল, গরমের রাতেও অদ্ভুত ঠান্ডা বাতাস। ঠিক তখনই সে শুনতে পেল—তার নাম ধরে কেউ ডাকছে!
"অর্ণব... ও অর্ণব... এদিকে আয়..."
কণ্ঠস্বরটা খুব চেনা, কিন্তু কে ডাকছে? সে চারদিকে তাকাল, কেউ নেই। আবার ডাকল, "অর্ণব... আমার কাছে আয়..."
অর্ণব যেন সম্মোহিত হয়ে গেল। সে অদ্ভুত ঠান্ডার মধ্যে বটগাছের দিকে এগোতে লাগল। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, সে যতই এগিয়ে যাচ্ছে, ডাকটা ততই দূরে সরে যাচ্ছে!
হঠাৎ তার মনে পড়ল, দাদুর কথা—"নিশির ডাকে সাড়া দিবি না, তাহলেই প্রাণ যাবে।"
অর্ণব সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে উল্টো দিকে দৌড় দিল। পেছনে শুনতে পেল, বিকট অট্টহাসি আর চাবুকের মতো কিছু একটা মাটিতে পড়ার শব্দ! সে বাড়ি ফিরে দেখল, তার পিঠে কালশিটে দাগ!
পরদিন সকালে গ্রামের লোকেরা বলল, কাল রাতে নিশি ডাকছিল, বেঁচে গেছিস বাবু। বটগাছের নিচে মানুষের হাড়গোড় পাওয়া যায়।
অর্ণব আর কোনোদিন রাতবিরেতে ওই রাস্তায় পা বাড়ায়নি।
