Ch 1 এ গ্রামে দু' জন রমণী পাশাপাশি বাস করত । তাদের মধ্যে একজনের একটি শিশু পুত্র ছিল আর অন্যজন ছিল নিঃসন্তান । যার সন্তান ছিল , সে একদিন পুকুরে জল তুলতে গিয়েছিল । ফিরে এসে দেখে ঘরে তার শিশু নেই । সে তখন পাগলের মত শিশুটিকে এদিক - ওদিক খুঁজতে লাগলো । হঠাৎ একটি শিশুর কান্না শুনতে পেয়ে সে পাশের বাড়িটিতে গিয়ে ঢুকলো । দেখল , সন্তানহীনা রমণীটি শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসে আছে । এতে শিশুটির মা ভীষণ রেগে গিয়ে বলল , " এ কীরকম ব্যবহার তোমার ? না বলে -কয়ে আমার ছেলেকে তুমি আমার ঘর থেকে নিয়ে এসেছ কেন ? এদিকে আমি ভেবে মরি । দাও দাও , তোমাকে আর আহ্লাদ দেখাতে হবে না ।"
সন্তানহীনা রমণীটি সমান ঝাঁঝের সঙ্গে উত্তর দিল ,
" সে কী কথা ? আমার ছেলে তোমাকে দেব কেন ?
যাও যাও , নিজের কাজে যাও । "
এই কথাটি শুনে শিশুটির মা তো আকাশ থেকে পড়ল । বলল , " এই ছেলে তোমার ? দুনিয়াসুদ্ধ লোকে জানে তোমার ছেলেপুলে নেই । শেষে আমার ছেলে চুরি করে নেবে ! ডাইনি কোথাকার । "
সন্তানহীনা রমণীর মুখ ভেংচে বলল , " আমি ডাইনি , না তুই ডাইনি । "
এই ভাবে সন্তানের অধিকার নিয়ে দুই রমণীতে তুমুল ঝগড়া বেঁধে গেল । একে অপরকে যা মুখে আসে তা -ই বলতে লাগলো । মজা দেখতে পাড়া -প্রতিবেশী এসে জুটল । তারা দু 'জন কারোও মধ্যস্ততা না -মেনে সামনে ঝগড়া করতে লাগল ।
দু 'জনেরই এক কথা , " এ ছেলে আমার । "
অবশেষে গাঁয়ের মোড়ল পরামর্শ দিল , " দেখো বাপু , আর ঝামেলা না -বাড়িয়ে কাজির দরবারে চলে যাও । তিনিই তোমাদের বিবাদের নিষ্পত্তি করে দেবেন । " গাঁয়ের উৎসাহী যুবকেরা ওই দুই রমণী এবং শিশুটিকে নিয়ে কাজির দরবারে গিয়ে হাজির হলো এবং বিবাদের বিষয় নিবেদন করল ।
কাজিসাহেব দাড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে গম্ভীরমুখে সবকিছু শুনলেন এবং দু '-একবার মাথা নাড়লেন ।
তারপর তিনি একে একে দুই রমণীকেই জিজ্ঞাসা করলেন , " এই ছেলে তোমার ? "
প্রথম রমণী উত্তর দিল , " জি হুজুর , এ আমার ছেলে । "
দ্বিতীয় রমণীও একই উত্তর দিল ।
তখন কাজিসাহেব চিন্তিত কন্ঠে বললেন , " তাই তো ! মহা সমস্যা বটে । ছেলে একটি , অথচ মা
দু ' । তোমরা দু 'জনেই সত্যি কথা বলছ , তাই না ? ছেলে তো তোমাদের দু 'জনেরই চাই । তা এক কাজ করা যাক কাজিসহেব বললেন । "
এই পর্যন্ত বলে কাজি তাঁর কর্মচারীকে আদেশ দিলেন , " ওহে , এই ছেলেটিকে তরোয়াল দিয়ে কেটে দু 'টুকরো করে ফেলো তো । তারপর দুই মাকেই একটা করে টুকরো দিয়ে দাও । " কাজির কথা শুনেই একটি রমণী উচ্চকণ্ঠে কেঁদে উঠে বলল , " না কাজিসাহেব , ছেলে আমার চাই না । ওকেই দিয়ে দিন। । আমি না -ই বা পেলাম তবু বাছা আমার প্রাণে তো বেঁচে থাকবে ।"
অন্য রমণীটি তখন নীরবে দাঁড়িয়েছিল । তার চোখে একফোঁটা জলও নেই । কাজিসাহেব মুচকি হেসে বললেন , " আপনারা সবাই নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন , শিশুটির প্রকৃত জননী কে । ঝগড়া -বিবাদ বা তর্ক করে জননীর অন্তরের পরিচয় দিতে হয় না ।" কথা শেষ করে তিনি কাঁদতে থাকা রমণীটির কোলে শিশুটিকে তুলে দিলেন । উপস্থিত লোকজনের বিদ্রূপধ্বনির মধ্যে অন্য রমণীটি মাথানিচু করে বিচার সভা ত্যাগ করল ।
